আজ নিজের প্রথম রোজার অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করি। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ছয়-সাত বছর। বাবা-মা, ভাইদের দেখতাম রমজান এলেই রোজা রাখে। আমারও খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ছোট বলে তারা রাখতে দিতো না। বলতো, আরও একটু বড় হও, তারপর রোজা রাখতে পারবা। কিন্তু এবার আর আমাকে ফাঁকি দেওয়া গেল না! সেহেরির সময় প্লেটে টুংটাং শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি সবাই সেহেরি করছে! আমি এক দৌড়ে উঠে গিয়ে প্লেট নিয়ে বসে পড়লাম। মা প্রথমে একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন- সারাদিন না খেয়ে থাকতে পারবে তো? কিন্তু আমার জেদ দেখে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন।
সকাল গড়িয়ে বেলা যতই বাড়তে লাগলো, ততই গলা শুকিয়ে আসতে লাগলো, পেটে কেমন টানটান ভাব। ভাবলাম, খেলাধুলা করলে হয়তো সময় কাটবে। কিন্তু মাঠে গিয়ে কিছুক্ষণ খেলার পরই বুঝলাম- বিপদ! খেলতে গিয়ে পিপাসায় যেন প্রাণ বেরিয়ে যায়! দুপুরের পর অবস্থা আরও কঠিন হলো। মনে হচ্ছিল, আর পারবো না! তবুও ধৈর্য ধরে রইলাম। বিকেলের দিকে শরীর একদম অবশ হয়ে এলেও মনে অন্যরকম আনন্দ! ইফতারের আগে মা যখন ঠান্ডা শরবত বানাচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিল, ইস! এখনই যদি একটা চুমুক দিতে পারতাম! কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই বড় ভাইয়ের কথা মনে পড়লো- প্রথম রোজাটা সবচেয়ে কঠিন, কিন্তু এটাই সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে!
অবশেষে প্রতীক্ষার প্রহর শেষ, মাগরিবের আজান হলো! খেজুর আর শরবতের স্বাদ জীবনে আগে কখনো এত ভালো লাগেনি!
সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা।
আমাদের সবারই ছেলেবেলায় এমন একটা গল্প আছে, তাই না? মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা প্রায় প্রতিটি শিশুর গল্পই, রমজানে গল্প বিশেষ করে কাছাকাছি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি, এই রোজার ইতিহাস কোথা থেকে শুরু? এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, সেই সৃষ্টির শুরু থেকে অর্থাৎ হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত রমজান প্রথা চলে আসছে।
এই মহাবিশ্বের আদি মানব, হজরত আদম (আ.) বেহেশতে ছিলেন। কিন্তু একদিন ভুল করে তিনি আল্লাহর আদেশ অমান্য করে একটি নিষিদ্ধ ফল খেয়ে ফেলেন। এ কারণে তাকে শাস্তি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয়া হলো। পৃথিবীতে আসার পর হজরত আদম (আ.) বুঝতে পারলেন, জান্নাতের সৌন্দর্য ও লাবণ্য আর তার মাঝে নেই। তিনি আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাইলেন। তখনই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আদম (আ.)-কে প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখার আদেশ দেন। এটি ছিল তার তওবা কবুলের অংশ। সেই থেকে ‘আইয়্যামে বিজ’ নামে তিন দিনের রোজার প্রচলন শুরু হয়। বুখারি শরিফে আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রা.)-এর বর্ণনা থেকে রোজার এই উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়।
আল্লামা ইব্নে কাছীর (রহ.) রচিত ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’ বইয়ে আমরা পাই, হজরত নুহ (আ.)-এর সময়েও রোজার প্রচলন ছিল। তিনি এতটাই ধার্মিক ছিলেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছর রোজা রাখতেন! আর তার সময় থেকেই প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার নিয়ম ছিল।
হজরত মুসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, তখন টানা ৪০ দিন রোজা রেখেছিলেন! আর বনি ইসরাইলকে যখন ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, তখন থেকে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আশুরার দিনে রোজা রাখার প্রচলন শুরু হয়। এই আশুরার রোজাই পরবর্তী সময়ে ইসলামে গুরুত্ব পায়। মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় জানা যায়, নবীজি (সা.) বলেন, “তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরও একটি রোজা রেখে নিও।”
হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন এক বিস্ময়কর নবী। তিনি শুধু নবী ছিলেন না, বরং ছিলেন এক মহান শাসকও। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস অনুযায়ী, হজরত দাউদ (আ.) একদিন পরপর রোজা রাখতেন, অর্থাৎ বছরের অর্ধেক দিনই তিনি রোজা পালন করতেন। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা হলো দাউদ (আ.) এর রোজা।
হজরত ঈসা (আ.) ৪০ দিন জঙ্গলে থেকে রোজা রেখেছিলেন! আর তার মা মরিয়ম (আ.)-ও রোজা রাখতেন। পবিত্র কোরআনের সূরা মরিয়মে বলা হয়েছে, রোজা রাখলে মরিয়ম (আ.) কারো সঙ্গে কথা বলতেন না। অর্থাৎ, রোজা শুধু খাবার থেকে নয়, অহেতুক কথা বলা থেকেও বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
এরপর আসে ইসলামের যুগ। সহিহ বুখারি থেকে পাওয়া যায়, যখন প্রিয়নবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেন, তখন দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। কারণ, এই দিনে মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই থেকে রাসূল (সা.) মুসলিমদেরও আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। সেই ঘটনা জানতে চলুন ফিরে যাই ১৪০০ বছর আগের আরবের মরুভূমিতে। মক্কার নিকটবর্তী হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। হঠাৎ ৬১০ খ্রিষ্টাব্দের এক রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে’। এভাবেই শুরু হলো কোরআন নাজিলের মহাযাত্রা। বছর ঘুরে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে, মদিনার মাটিতে দ্বিতীয় হিজরিতে আল্লাহর হুকুম এলো— হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো… (সুরা বাকারা, ১৮ ৩)। আগে অবশ্য সাহাবিরা শেষ নবীর নির্দেশে মহররম মাসে আশুরার রোজা পালন করতেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রমজান মাসে রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফলে পরিণত হয়। আর এভাবেই ধীরে ধীরে রমজানই হয়ে ওঠে আত্মশুদ্ধির উৎকৃষ্ট সময়।
তারপর মক্কা থেকে মদিনা, এরপর অষ্টম শতকে এসে ধীরে ধীরে সারাবিশ্বের মুসলমানরা রোজা পালন শুরু করেন। বাংলায় ইসলামের আলো ছড়ান হযরত শাহ জালাল, খান জাহান আলীর মতো সুফি সাধকদের হাত ধরে। আজ ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে নাইজেরিয়ার সাহারা মরুভূমি পর্যন্ত ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে রমজানের সংস্কৃতিও।
চলুন জেনে আসি, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রমজান এবং ইফতার, ও সেইসাথে সেহরির সংস্কৃতি।
রমজানে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে চলে নানান রকম ইফতারের আয়োজন। তবে ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, হালিম, সমুচা, জিলাপি, শরবত ও নানা রকম ফলের প্রধান্যই থাকে বেশি। শুধু কি ঘরে, প্রতিটা শহর আর মফস্বলে বাহারি ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ঢাকার চকবাজারের ইফতার বিক্রি তো রীতিমতো বিখ্যাত।
ইদানিং অবশ্য শুধু ইফতার নয়, সেহরির আয়োজনেও কোনো কমতি নেই। বড় বড় হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলোতেও মানুষ সেহরির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
ইসলাম ধর্মের উৎপত্তিস্থল ও প্রধান তীর্থভূমি সৌদি আরবের সংস্কৃতি আরও একটু ভিন্ন। রমজানে উৎসবের আমেজে সাজানো হয় বাজার, মসজিদ, এমনকি ঘরবাড়িও। ইফতারে সৌদিরা বেশ আয়েশি। সুগন্ধী বাসমতি চাল, মাংস আর বিশেষ সব মসলা সংমিশ্রণে মৃদু আঁচে রান্না করা আরব দেশগুলোর জাতীয় খাবার কাবসা তো থাকেই, পাশাপাশি বিরিয়ানি, কাবাব, সমুচা, স্যুপসহ বিভিন্ন রাজকীয় খাবার ছাড়া তাদের চলে না! তবে রমজানের সবচেয়ে মানবিক দিক হলো সৌদি বাদশার উপহার বাক্সো, যেখানে দরিদ্রদের জন্য উপহার হিসেবে থাকে খেজুর, চাল, তেল, চিনি, দুধসহ আরও অনেক নিত্যপণ্য। এ সময় সুপারমার্কেটেও থাকে বিশেষ ছাড়, আর নিত্যপণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
মক্কা-মদিনার মসজিদগুলোতে ইফতারের দৃশ্য সত্যিই অনন্য! মাগরিবের আজানের ধ্বনি কানে এলে সবাই খেজুর মুখে দেয়, জমজমের পানি পান করে, এরপর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ইফতার।
সুন্নাত অনুসারে খেজুর আর পানি দিয়ে শুরু হয় সৌদিদের সেহরি। গম আর মাংস দিয়ে তৈরি হারিস খুবই জনপ্রিয়। আবার সেদ্ধ ছোলা দিয়ে তৈরি ফুল মেডামেসও অনেকের পছন্দ। সেখানে খামির নামের এক ধরনের হালকা মিষ্টি রুটি বেশ জনপ্রিয়, যা পনির, মধু বা খেজুরের সঙ্গে খাওয়া হয়। গমের রুটির সঙ্গে ছোলা-তিলের পেস্ট দিয়ে তৈরি হুমাস নামের বিশেষ এক খাবারেরও প্রচলন আছে। এছাড়াও এক ধরনের সবুজ পাতা দিয়ে রান্না করা সবজি— মোলোখিয়াও রয়েছে সৌদিদের পছন্দের তালিকায়।
তুরস্কের রোজার সংস্কৃতি আমাদের সাথে কিছুটা মিলে যায়। তুর্কিরা আমাদের মতোই খেজুর ও ঠান্ডা শরবত দিয়ে ইফতার শুরু করে। এরপর থাকে এক ধরনের তুর্কি রুটি – পিদে, পনির, কাবাব, সালাদ এবং মিষ্টান্ন হিসেবে বাক্লাভা।
সেহরিতে হালকা মিষ্টি স্বাদযুক্ত সিমিৎ রুটি তুরস্কে খুবই জনপ্রিয়। এটি বাইরে থেকে মচমচে আর ভেতরে তুলতুলে নরম। এছাড়া পনির, টমেটো, জলপাই থাকে নিয়মিত আইটেম হিসেবে। মধু দিয়ে টকদই ও বাদাম টার্কিশদের খুবই প্রিয় সেহরির খাবার। সেহরির পর ঐতিহ্যবাহী তুর্কি চা তো অনিবার্য পানীয়।
তবে তুরস্কে রমজানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ড্রাম বাজিয়ে সেহরির জন্য জাগিয়ে তোলা। যারা এই কাজটি করেন, তারা ‘দাভুলজু’ নামে পরিচিত। শত শত বছর ধরে বড় কাঠের ড্রাম বাজিয়ে পুরো শহরকে সেহরির আহ্বান জানিয়ে আসছেন তারা। দাভুলজু এখন শুধু একটি পেশা নয়, বরং তুরস্কের রমজান সংস্কৃতির এক অপরিহার্য ঐতিহ্য।
অবশ্য, আমাদের দেশেও এ সংস্কৃতি আছে। গ্রামাঞ্চল কিংবা শহর এলাকাগুলোতে কিশোর-তরুণরা টিন বা ঘণ্টা বাজিয়ে এমনকি মাইকে হামদ-নাথের শুনিয়েও সেহরিতে মানুষকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। রমজান শেষে এলাকাবাসী তাদেরকে নিরাশ করে না, তাদের জন্য সম্মানীরও ব্যবস্থা রাখেন। এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে আমাদের দেশে।
যে দেশে সবচেয়ে বেশি মুসলমানরা বসবাস করে এখন তাদের কথায় আসি। ইন্দোনেশিয়া দেশটিতে রোজাদাররা তাকজিল নামের হালকা মিষ্টি খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করেন। খেজুর, মিষ্টি আলু এবং নারকেল দুধ ও গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টিজাতীয় খাবার- কোলাক তাদের ইফতার টেবিলের অপরিহার্য অংশ।
সেহরিতে ইন্দোনেশিয়ার ট্র্যাডিশনাল ফ্রায়েড রাইস– নাসি গোরেং খুবই জনপ্রিয়। এ ছাড়াও চালে নারকেল দুধ মিশিয়ে ভাপে রান্না করা নাসি উদুক আর হলুদ ভাত – নাসি কুনিং খাওয়ার প্রচলন আছে।
ইন্দোনেশিয়ার মানুষ মসজিদে ইফতার ও সেহরি করার দিকেও বেশি ঝোঁকেন, যেখানে শত শত মানুষ একসাথে বসে খাবার ভাগ করে খান। আমাদের দেশেও অবশ্য মসজিদে ইফতার করার ও করানোর একটা প্রচলন আছে।
কায়রোর রাস্তায় সন্ধ্যার আগেই ইফতারের আয়োজন শুরু হয়। মিসরীয়রা ইফতার শুরু করেন হালকা স্যুপ দিয়ে। ছোট পাস্তা, চিকেন বা গরুর স্টক দিয়ে তৈরি অরজো স্যুপও বেশ জনপ্রিয়। কখনো আবার এই স্যুপের সাথে মেশানো হয় ভার্মিসেলি নুডলস। এরপর আসে মেজে নামের অ্যাপিটাইজার, যেগুলোর মধ্যে স্টাফড আঙুরপাতা, ম্যাশড করা ছোলা, বেগুন আর কোফতা থাকে। এসব খাবার সাধারণত মিসরীয় পিটা রুটি দিয়ে খাওয়া হয়। এটি অনেকটা আমাদের ফুলকো লুচির মতো।
মূল খাবারে গ্রিলড ল্যাম্ব অথবা চিকেন, সঙ্গে ভাত আর সবজি থাকে। মিসরীয়দের সবচেয়ে পরিচিত ইফতারের মধ্যে কোশারি খুব জনপ্রিয়—ভাত, ডাল, পাস্তা, ছোলা আর টমেটো সসের দারুণ একটা মিশ্রণ এই কোশারি। রোজ মি’আম্মার নামের একটা সুস্বাদু ভাতের পদও থাকে, যেখানে মেশানো হয় মাখন, দুধ, ক্রিম আর মাংসের স্টক।
মিসরীয়রা সেহরিতে সাধারণত মেদামেস খায়, যেটা ছোলা বা মটরশুঁটি দিয়ে তৈরি। আরেকটা খুব জনপ্রিয় খাবার হলো তামিয়া, যা ছোলা বেটে বানানো হয়। মিসরীয় রুটি বালাদি সেহরিতে বেশ জনপ্রিয়। এটা পনির, মধু বা তাহিনির অর্থাৎ তিলের পেস্টের সঙ্গে খেতে বেশ মজার। আর পানীয়র মধ্যে সুগন্ধি চা আর তেঁতুলের শরবত সেহরির জন্য দারুণ জনপ্রিয়।
মালয়েশিয়ার সেহরি-ইফতার আমাদের মতোই উৎসবমুখর। ইফতারের আগে বাজার ও রেস্টুরেন্টে ভিড় লেগে যায়। রোজাদাররা খেজুর, গোলাপ জল ও দুধের ঠান্ডা শরবত – বান্দুং দিয়ে রোজা ভাঙেন। এরপর থাকে রোটি জনডি, নারিকেল দুধে রান্না করা ভাত ও ডিমের রেসিপি- নাসি লেমাক এবং গ্রিল করা মাংস।
মালয়েশিয়ায় মসজিদ থেকে বুবুর ল্যাম্বাক নামে এক ঐতিহ্যবাহী খাবার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়, যা চাল, মাংস, নারিকেলের দুধ ও ঘি দিয়ে তৈরি। প্রায় পাঁচ দশক আগে কুয়ালালামপুর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে এর প্রচলন শুরু হয়।
সেহরির জন্য নাসি সাহুর নামে এক ধরনের ভাত খাওয়া হয়। এটা ফ্রায়েড হতে পারে, নারকেলের দুধে রান্না করা হতে পারে, বা সাধারণ সেদ্ধ ভাতও হতে পারে, যা বিভিন্ন সাইড ডিশের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। আরেকটা জনপ্রিয় ভাতের পদ হলো নাসি লেমাক, যা সুগন্ধি নারকেল দুধে রান্না করা হয়। সঙ্গে থাকে শুঁটকি, বাদাম, সেদ্ধ ডিম, শসা আর সাম্বাল নামের এক মসলাদার চাটনি।
সেহরিতে নাসি গোরেং, রোটি চানাই, ডিমের স্যুপ ও দুধ চা বেশ জনপ্রিয়। কেউ কেউ নুডলস বা লাকসা খেয়ে সেহরি শেষ করেন। মালয়েশিয়ার ইফতার ও সেহরিতে মালয়, চীনা ও ভারতীয় খাবারের সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা দেশটির বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতিফলন।
প্রতিটি দেশের ইফতার ও সেহরি মূলত তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। এবং এসব বৈচিত্র্যের মাঝেও লুকিয়ে থাকে সংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা। আপনি যদি এর কোনো একটি দেশে রমজান উদযাপনের সুযোগ পান, তাহলে সবার আগে কোথায় যেতে চাইবেন? কমেন্টে জানাতে পারেন।
রমজান যেমন দেশে দেশে ভিন্ন, তেমনি ইসলামের বিভিন্ন মাজহাব বা ধর্মীয় মতবাদের অনুসারীদের মধ্যেও রমজান উদযাপনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন- হানাফিরা ২০ রাকাত তারাবিহ আদায়কে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মনে করেন এবং প্রতিরাতে কোরআন তেলাওয়াত করেন। ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে সুন্নাহ অনুসরণ করেন। আবার মালিকিরা মদিনার রীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। ফজরের আজানের কিছুক্ষণ আগে সেহরি বন্ধ করাকে সুন্নাহ মানেন এবং দীর্ঘ কিরাতের মাধ্যমে তারাবিহ আদায় করেন।
শাফেয়িরা মাজহাবের অনুসারীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেহরি গ্রহণকে সুন্নাহ হিসেবে দেখেন। তারা ২০ রাকাত তারাবিহ আদায় করেন এবং ইতিকাফের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। হাম্বলিরা ইবাদতে নিষ্ঠাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। কেউ ২০ রাকাত, কেউ ৮ রাকাত তারাবিহ আদায় করেন। সেই সাথে রমজানের শেষ দশ রোজায় ইতিকাফ পালন করেন তারা। অন্যদিকে জাফরিরা সূর্যের ওপর ভিত্তি করে ইফতার ও সেহরির সময় নির্ধারণ করেন। তারা ফজরের কিছু আগে সেহরি শেষ করেন এবং মাগরিবের কিছু পরে ইফতার করেন। মাজহাব ভেদে পার্থক্য যতোই থাকুক, সবার লক্ষ্য কিন্তু একটাই- মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন!
রমজান শুধু ধর্মীয় অনুশাসন কিংবা বাধ্যবাধকতা নয়, এটির বৈজ্ঞানিক উপকারিতাও রয়েছে! পুষ্টিবিদ মার্ক ম্যাটসন গবেষণায় দেখিয়েছেন, রমজানের সময় সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে, এতে ওজন কমাতে সহায়তা করে। অর্থাৎ মোটা কথায় বলতে গেলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট এই সময় কমানো সম্ভব হয়। জন হপকিন্স মেডিসিন বলছে, উপবাস থাকলে মেটাবলিক সুইচিং হয়, ফলে চর্বি পোড়ানোর হার বেড়ে যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রোজা রাখলে রক্তে কোলেস্টেরল কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, এমনকি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও উপকার মেলে। আমাদের শরীরে সারা বছর ভেজাল ও কেমিক্যালযুক্ত খাবারের কারণে যে বিষাক্ত পদার্থ জমে, রোজা সেটাও দূর করতে সাহায্য করে।
কিন্তু রমজানের আসল শিক্ষা কেবল শারীরিক সুস্থতা নয়, সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতার ও সেহরিতে ভরপুর খানাদানাও নয়। বরং রমজানের আসল শিক্ষা ত্যাগ ও সংযম। লোভ-লালসা, সুদ, ঘুষসহ সকল প্রকার অন্যায় থেকে নিজেকে সংযত রাখা। সারাদিন অভুক্ত থেকে অন্যকে খাওয়ানোর যে আনন্দ, তা কোনো বই থেকে শেখা যায় না। ইফতারের সময় যখন ধনী-গরিব একসঙ্গে বসে খায়, তখনই সব ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তখনই বোঝা যায়, সম্পর্কের আসল সৌন্দর্য প্রাচুর্যে নয়, ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতায়।
রমজানের শেষে যখন আকাশে ঈদের চাঁদ ওঠে, তখন অন্যরকম এক আনন্দ। নতুন জামা, ভালো খাবার-দাবার, সবাই মিলে ঈদের নামাজ- বলতে গেলে পুরো একটা মাসের সংযমের পর যেন আনন্দের উপলক্ষ্য! কিন্তু রমজানের আসল শিক্ষা কী? নিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা, ক্ষমা আর বিনয়।
তাই আসুন, রমজান মাসে সঠিক ভাবে রোজা পালন করি। আর শুধু এক মাস নয়, সারা বছর রমজানের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করি, পালন করি।
ধন্যবাদ সবাইকে
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
Ramadan Across Nations
Let me start with my first fasting experience. I was only six or seven years old at the time. I used to watch my parents and siblings fasting during Ramadan, and I wanted to join them. But since I was young, they wouldn’t let me. They would say, “Wait until you grow up a little, then you can fast.” But this time, they couldn’t trick me!
The clinking sound of plates during Suhoor woke me up. I saw everyone having their pre-dawn meal! Without hesitation, I quickly got up, grabbed a plate, and sat down. At first, my mother was a bit worried—would I be able to stay hungry all day? But seeing my determination, she finally agreed.
As the morning passed and the day progressed, my throat became dry, and my stomach felt tight. I thought playing might help pass the time. But after running around for a while, I realized—big mistake! The thirst became unbearable! By noon, things got even harder. I felt like I couldn’t go on! But I held on with patience.
By the afternoon, my body felt weak, yet my heart was filled with a unique joy. When my mother was preparing a cold drink for Iftar, I wished I could take a sip right then! But suddenly, I remembered what my elder brother had told me—”The first fast is the hardest, but it remains the most beautiful memory!”
Finally, the long wait was over—the Maghrib Adhan was called! I had never tasted dates and juice so delicious in my life!
Wishing everyone a blessed Ramadan.
We all have a similar story from our childhood, don’t we? Growing up in a Muslim family, almost every child has a Ramadan story that feels familiar. But have we ever thought about where the history of fasting began? This practice has been followed for ages, from the time of Prophet Adam (AS) to the present.
The first human of this universe, Prophet Adam (AS), lived in paradise. But one day, he mistakenly disobeyed Allah’s command and ate a forbidden fruit. As a result, he was sent to Earth as a punishment. After coming to Earth, Prophet Adam (AS) realized that the beauty and comfort of paradise were no longer with him. He repented and cried to Allah for forgiveness. That’s when the Almighty commanded Adam (AS) to fast on the 13th, 14th, and 15th of every lunar month as part of his repentance. From then on, the practice of three-day fasting, known as “Ayyam al-Bid,” began. The origin of fasting is mentioned in Sahih Bukhari through the narration of Abdullah ibn ‘Amr ibn al-As (RA).
In the book Tafsir Ibn Kathir by Allama Ibn Kathir (RA), we find that fasting also existed during the time of Prophet Nuh (AS). He was so devout that he fasted throughout the year except on the days of Eid-ul-Fitr and Eid-ul-Adha! The practice of fasting for three days every month also started during his time.
When Prophet Musa (AS) went to Mount Tur to converse with Allah, he fasted for 40 consecutive days! After the Israelites were freed from Pharaoh’s tyranny, they began fasting on the Day of Ashura to express gratitude to their Creator. This Ashura fast later gained significance in Islam. According to Musnad Ahmad, Prophet Muhammad (SAW) said, “Fast on the Day of Ashura, but to distinguish yourselves from the Jews, observe another fast on the day before or the day after.”
Prophet Dawud (AS) was a remarkable prophet. He was not only a prophet but also a great ruler. According to the Hadiths in Bukhari and Muslim, Prophet Dawud (AS) fasted every alternate day, meaning he fasted for half the year! The beloved Prophet Muhammad (SAW) said, “The most beloved fast to Allah is the fast of Dawud (AS).”
Prophet Isa (AS) fasted for 40 days while staying in the wilderness! His mother, Maryam (AS), also observed fasting. In Surah Maryam of the Holy Quran, it is mentioned that when she fasted, she refrained from speaking to anyone. This shows that fasting is not just about abstaining from food but also from unnecessary speech.
Then came the era of Islam. According to Sahih Bukhari, when the Prophet Muhammad (SAW) migrated to Medina, he saw that the Jews were fasting on Ashura because it was the day Prophet Musa (AS) and his followers were saved from Pharaoh. Seeing this, the Prophet (SAW) instructed the Muslims to fast on Ashura as well.
In the second year of Hijrah, fasting during the month of Ramadan was made obligatory. To understand this event, let’s go back 1400 years to the deserts of Arabia. Our beloved Prophet Muhammad (SAW) was meditating in the Cave of Hira near Mecca. Suddenly, on a night in 610 AD, Angel Jibreel (AS) appeared and said, “Read, in the name of your Lord.” This marked the beginning of the great revelation of the Quran.
A few years later, in 624 AD, during the second year of Hijrah in Medina, Allah’s command was revealed:
“O you who have believed, fasting has been prescribed for you as it was prescribed for those before you…” (Surah Al-Baqarah, 2:183)
Before this, the companions of the Prophet (SAW) used to fast on the Day of Ashura as per the final prophet’s instructions. However, after fasting during Ramadan was made obligatory, fasting on Ashura became voluntary. And thus, Ramadan gradually became the ultimate time for self-purification.
From Makkah to Madinah, and then by the eighth century, fasting was gradually practiced by Muslims worldwide. In Bengal, Islam spread through the efforts of Sufi saints like Hazrat Shah Jalal and Khan Jahan Ali. Today, from the Indonesian islands of Java to the Sahara Desert of Nigeria, the light of Islam has spread, along with the culture of Ramadan.
Now, let’s explore how Ramadan, Iftar, and Suhoor traditions vary across different countries.
In Bangladesh, every household prepares a variety of Iftar items. However, chickpeas, puffed rice, lentil fritters, beguni (fried eggplant), haleem, samosas, jilapi, sherbet, and various fruits dominate the menu. Not just at home, vendors in every town and city display an array of Iftar items. The Iftar market in Dhaka’s Chawkbazar is especially famous.
Recently, Suhoor arrangements have also gained significance. Large hotels and restaurants now cater to Suhoor enthusiasts, drawing in many people.
Saudi Arabia, the birthplace of Islam and a major pilgrimage center, has a slightly different Ramadan culture. Markets, mosques, and homes are decorated in a festive manner. Saudis prefer luxurious Iftars. Their menu often includes Kabsa, a slow-cooked dish made of aromatic basmati rice, meat, and special spices, alongside biryani, kebabs, samosas, and soups. The humanitarian aspect of Ramadan is also visible in Saudi Arabia, where the king provides food boxes for the needy, containing dates, rice, oil, sugar, and milk. Additionally, supermarkets offer special discounts, and prices of daily essentials are controlled.
The Iftar scene in the mosques of Makkah and Madinah is truly unique. As soon as the Maghrib Adhan is called, people break their fast with dates, drink Zamzam water, and then proceed with a traditional Iftar meal.
Following the Sunnah, Saudis begin Suhoor with dates and water. Haris, a wheat and meat dish, is very popular, as is Ful Medames, made from boiled fava beans. They also enjoy Khameer, a mildly sweet bread served with cheese, honey, or dates. Another common dish is Hummus, a chickpea and sesame paste blend. Molokhia, a stew made with green leaves, is also a favorite among Saudis.
Turkey’s fasting culture shares some similarities with Bangladesh. Turks start their Iftar with dates and cold sherbet. The meal includes Pide, a Turkish flatbread, cheese, kebabs, salads, and desserts like Baklava.
For Suhoor, Simit, a mildly sweet bread with a crispy exterior and soft interior, is very popular. Cheese, tomatoes, and olives are staple items. Turkish people also enjoy yogurt with honey and nuts. Traditional Turkish tea is a must-have after Suhoor.
One of the most distinctive traditions in Turkey is waking people up for Suhoor by drumming. Those who perform this task are known as “Davulcu.” For hundreds of years, they have used large wooden drums to wake the entire city for Suhoor. Over time, this has become more than just a job; it is now an integral part of Turkish Ramadan culture.
In Bangladesh, a similar practice exists. In rural and urban areas, young boys use tin drums, bells, or even microphones to recite hymns and wake people up for Suhoor. After Ramadan, locals reward them with monetary gifts, a tradition that has continued for generations.
Now, let’s talk about the country with the largest Muslim population. In Indonesia, people break their fast with a sweet dish called Takjil. Dates, sweet potatoes, coconut milk, and palm sugar-based sweets like Kolak are essential items on the Iftar table.
For Suhoor, Indonesia’s traditional fried rice, Nasi Goreng, is very popular. Other common dishes include Nasi Uduk, rice steamed in coconut milk, and Nasi Kuning, a turmeric-infused rice dish.
Indonesians prefer to have Iftar and Suhoor in mosques, where hundreds of people gather to share meals. A similar practice is followed in Bangladesh, where many people prefer to have Iftar in mosques.
In Cairo, the streets come alive before Iftar. Egyptians begin their Iftar with light soup. A popular dish is Orzo soup, made with small pasta, chicken or beef stock, and sometimes vermicelli noodles. Meze, a collection of appetizers including stuffed grape leaves, mashed chickpeas, eggplant, and kofta, is also common. These dishes are typically eaten with Egyptian pita bread, which resembles our fluffy luchi.
For the main course, grilled lamb or chicken with rice and vegetables is common. One of the most popular Egyptian Iftar dishes is Koshari, a mix of rice, lentils, pasta, chickpeas, and tomato sauce. Another famous dish is Roz Me’ammar, a rich rice dish cooked with butter, milk, cream, and meat stock.
For Suhoor, Egyptians usually eat Medames, a dish made from chickpeas or fava beans. Another popular dish is Taamiya, which is made from ground chickpeas. Egyptian Baladi bread is a staple at Suhoor, often served with cheese, honey, or tahini. Among beverages, fragrant tea and tamarind sherbet are Ramadan favorites.
Malaysia’s Suhoor and Iftar scenes are vibrant. Before Iftar, people crowd markets and restaurants. Malaysians break their fast with dates, rose water, and a milk-based drink called Bandung. Their Iftar spread includes Roti John, coconut milk-cooked rice with eggs (Nasi Lemak), and grilled meat.
A special dish called Bubur Lambuk, made of rice, meat, coconut milk, and ghee, is distributed for free at mosques. This tradition started at Kuala Lumpur’s central mosque five decades ago.
For Suhoor, Malaysians eat a variety of rice dishes such as Nasi Sahur, which can be fried, coconut-infused, or plain boiled rice served with side dishes. Another favorite is Nasi Lemak, cooked with coconut milk and served with anchovies, nuts, boiled eggs, cucumbers, and spicy sambal paste.
Suhoor favorites include Nasi Goreng, Roti Canai, egg soup, and milk tea. Some also enjoy noodles or Laksa. Malaysian Iftar and Suhoor feature a blend of Malay, Chinese, and Indian cuisines, reflecting the country’s diverse culture.
Each country’s Iftar and Suhoor highlight its history and traditions, yet they all share the same lesson—self-restraint and compassion. If you could celebrate Ramadan in any of these countries, where would you go first? Let us know in the comments.
Just as Ramadan traditions vary across nations, different Islamic schools of thought also have distinct practices during Ramadan.
For example, Hanafis consider 20 Rakats of Taraweeh an important act of worship and recite the Quran every night. They follow the Sunnah by breaking their fast with dates and water. Malikis prioritize the traditions of Madinah, stopping Suhoor a little before Fajr and performing lengthy Taraweeh recitations.
Shafi’is believe in eating Suhoor until the last moment and perform 20 Rakats of Taraweeh while emphasizing I’tikaf. Hanbalis focus on devotion, some performing 20 and others 8 Rakats of Taraweeh, along with observing I’tikaf in the last 10 days. Jafaris set their fasting and Suhoor times based on the sun, breaking their fast slightly later than others. Despite these differences, the goal is the same—to seek the pleasure of Allah.
Ramadan is not just about religious rituals; it also has scientific benefits. According to nutritionist Mark Mattson, fasting helps burn stored fat, aiding in weight loss. Johns Hopkins Medicine states that fasting triggers metabolic switching, increasing fat-burning rates.
Studies show that fasting reduces cholesterol, controls blood pressure, and benefits Type-2 diabetes patients. It also helps detoxify the body from harmful chemicals accumulated throughout the year.
But the true lesson of Ramadan is not just physical well-being or feasting at Iftar and Suhoor. Ramadan teaches sacrifice and self-discipline, keeping us away from greed, corruption, and injustice. The joy of feeding others while fasting cannot be learned from books. When the rich and poor sit together for Iftar, social divisions disappear, revealing the beauty of shared experiences.
When the Eid moon appears, a unique happiness fills the air. New clothes, delicious food, and the Eid prayer bring everyone together—a moment of joy after a month of self-restraint. But the real lesson of Ramadan? Discipline, compassion, forgiveness, and humility.
So, let us observe fasting properly, not just for one month, but carry the lessons of Ramadan in our hearts throughout the year.
Thanks to everyone,
Stay healthy, stay well.