১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল। সূর্য ডুবতে না ডুবতেই চট্টগ্রামের উপকূলের মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো শক্তিশালী এক দানব। ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্প নামক সেই দানব নাড়িয়ে দিলো চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে তৎকালীন আরাকান পর্যন্ত। প্রচণ্ড সেই ঝাঁকুনিতে সীতাকুণ্ডের পাহাড় থেকে বেরিয়ে এল আগুনের নদী। আর বঙ্গোপসাগর উথালপাথাল করে সৃষ্টি হলো সুনামি। কিন্তু এর সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক ছিল সেই সব মানুষের গল্প, যারা ঘর-বাড়ি, স্বজন, সবকিছু হারিয়ে এক মুহূর্তেই হয়ে পড়ল নিঃস্ব। মায়ের কোল থেকে ছুটে যাওয়া শিশু, স্বামীর হাত ছাড়া হয়ে যাওয়া স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ দেখা না পাওয়া সন্তান- প্রতিটি প্রাণই আজও ইতিহাসের এক একটি করুণ অধ্যায়। সেই ভয়াবহ দুর্যোগ কেড়ে নিয়েছিল দুইশতাধিক প্রাণ। আর রেখে গিয়েছিল এমন এক আতঙ্ক, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প এটি।
শুভেচ্ছা সবাইকে।
আপনার হয়তো এতোক্ষণে বুঝে গেছেন আজ আমরা কি নিয়ে কথা বলবো। হ্যাঁ, গত কয়েকদির ধরে আমাদের সবার মনে শীতল আতঙ্ক তৈরি করে রাখা ভূমিকম্প নিয়েই এই ভিডিও। এইতো কয়েকদিন আগেই ২১ নভেম্বর, ঠিক সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ, বিশেষ করে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর কেঁপে উঠেছিল শক্তিশালী ভূমিকম্পে। এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী, মানে ঢাকার খুব কাছে। এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার ভবন ধসে যাওয়া বা হেলে পড়া এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরপর আরও কয়েকটি ভূকম্পনে কেঁপেছে রাজধানী। বিশেষজ্ঞরা বলছে এবারের ঝাঁকুনিই আসলে আমাদের ভবিষ্যতের এক চরম বিপদের শক্তিশালী সতর্কবার্তা। আপনারা কি জানেন শুধু ঢাকায় হওয়া এই মাঝারি মাত্রার কম্পনের এর সঙ্গে যুক্ত আছে পৃথিবীর জন্ম, ভাঙন, টেকটোনিক প্লেট, আগ্নেয়গিরি, প্রাণীর আচরণ, এবং বাংলাদেশের চারপাশ ঘিরে থাকা সক্রিয় ফল্ট লাইনের অজানা ইতিহাস।
পৃথিবীকে আমরা একটি নিখুঁত গোলক হিসেবে ভাবি, কিন্তু বাস্তবে এর ভেতরটা এক মহাজাগতিক কারখানা। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীর ভূত্বক তৈরি হয়েছে কিছু বিশাল টুকরা দিয়ে, যেগুলোকে বলা হয় টেকটোনিক প্লেট। এই প্লেটগুলো কোনো স্থির বস্তু নয়- বরং ভাসমান অবস্থায় এগুলো ধীরে ধীরে নড়তে থাকে। অনেকটা ঠিক যেমন, কোনো বিশাল বরফের চাঁই জলে ভাসতে ভাসতে ধীরে ধীরে সরে যায়। প্রতি বছর এই বিশাল প্লেটগুলো মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার করে এগোয়। কিন্তু কোটি কোটি বছরে সেই সামান্য সরে যাওয়াই বদলে দিয়েছে পৃথিবীর মানচিত্র।
আজ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সব মহাদেশ একসঙ্গে জোড়া লাগানো ছিল। বিশাল সেই স্থলভাগের নাম ছিল প্যাঞ্জিয়া। আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া-সবই তখন একসাথে ছিল। পরে প্লেটের নড়াচড়ার কারণে প্যাঞ্জিয়া ভেঙে যেতে থাকে। এটি ভেঙ্গে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মতো সমুদ্র তৈরি হয়, আর মহাদেশগুলো আজকের অবস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। প্যাঞ্জিয়া যেমন ভেঙ্গে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছিল, তেমনি ভবিষ্যতে আবার মহাদেশগুলো একসাথে যুক্ত হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি বছর পর পৃথিবী আবার একটি সুপারমহাদেশ তৈরি করতে পারে, যার সম্ভাব্য নাম দেওয়া হয়েছে প্যাঞ্জিয়া প্রোক্সিমা বা আমাসিয়া। এটি আমাদের সময়ের ঘটনা নয়, কিন্তু এই গল্প জানার প্রয়োজন আছে- কারণ এতে বোঝা যায়, পৃথিবীর ভেতরের নড়াচড়াই ভূমিকম্পের মূল কারণ।
যখন প্লেটগুলো আটকে থাকে, তখন প্রচুর শক্তি জমে। আর যখন সেই শক্তি হঠাৎ বের হয়ে আসে, তখনই ভূকম্পন হয়। যেমন- পুকুরের পানিতে যদি কিছু ছোড়া হয় তখন তার চারপাশের পানিতে যেভাবে তরঙ্গ বা ঝাকুনি তৈরি হয়, এটাও ঠিক তেমন। প্লেট যেখানে ধাক্কা খায় সেখানে পাহাড় তৈরি হয়; যেখানে এক প্লেট অন্যটির নিচে গলে যায় সেখানে তৈরি হয় আগ্নেয়গিরি; আবার যেখানে দুই প্লেট ঘষা খায় তখনই হয় ভূমিকম্প।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পৃথিবী কাঁপার আগমুহূর্তে প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে মানুষের বহু গল্প আছে- কুকুরের অস্থিরতা, পাখির হঠাৎ ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া, গরুর দুধ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা ব্যাঙের পুকুর ছেড়ে ডাঙায় উঠে আসা। যদিও গবেষণায় এসবের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ভূমিকম্পের ঠিক আগে বন্যপ্রাণী বা খামারের পশুদের চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা এসেছে। তবে এটিকে নিয়মিত সতর্কতা হিসেবে দেখার প্রমাণ এখনো বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তবে প্রাচীন যুগে চীনারা যন্ত্র দিয়েই ভূমিকম্প শনাক্ত করার চেষ্টা করতো। ১৩২ খ্রিস্টাব্দে চীনা বিশারদ ঝাং হেং তৈরি করেছিলেন বিশ্বের প্রথম সিসমোস্কোপ, যা দূরের ভূমিকম্পও সঠিক দিক নির্দেশসহ শনাক্ত করতে পারত। আজ আমরা সিসমোগ্রাফ এবং জিপিএস দিয়ে আরও সূক্ষ্মভাবে মাটির মাইক্রো-মুভমেন্ট পর্যন্ত ধরতে পারি। কিছু দেশে আছে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম, যেখানে ভূমিকম্প শুরুর সেকেন্ডের মধ্যেই সতর্কবার্তা চলে যায় মানুষের কাছে। কিন্তু এই অল্প সময়ে কতটুকুই বা প্রস্তুতি নেয়া যায়, আপনারাই বলেন?
এবার আসি বাংলাদেশের বাস্তবতায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তার মধ্যে ভারতীয় প্লেট দক্ষিণ দিক থেকে ধাক্কা দিচ্ছে, ইউরেশিয়ান প্লেট উত্তর দিক থেকে চাপ দিচ্ছে, আর পূর্বদিকে রয়েছে বার্মা প্লেট। এই তিন প্লেটের মাঝখানে থাকা আমাদের দেশটি ঠিক যেন চাপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশের আশপাশে রয়েছে দাউকি ফল্ট, মধুপুর ফল্ট, শিলং প্লেটের নিচের বিপজ্জনক ফল্ট এবং ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম ভাঁজবলয়ের ভেতরে অসংখ্য অ্যাকটিভ ফল্ট। বহু বছর ধরে এসব অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়নি।
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পটি ছিল মাত্র ৫.৭ মাত্রার। কিন্তু তাতেই ঢাকা ও আশপাশের শহরগুলো কেঁপে উঠেছে, কোথাও কোথাও ভবন হেলে পড়েছে, প্রাণহানি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ছিল বড় বিপদের আগাম সতর্কবার্তা। গবেষণা অনুযায়ী, দাউকি ফল্টে ৮ মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হওয়ার মত শক্তি জমে আছে। যেহেতু ঢাকা নরম পলিমাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই এখানে কম্পনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। চিন্তা করেন, যদি মাটির ভেতর জমে থাকা শক্তিগুলো ভূমি থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে কি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে ঢাকা শহরের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঘনবসতি, সরু রাস্তা, জলাভূমি ভরাট করে বানানো হাইরাইজ এলাকা- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কী হবে তা চিন্তারও বাইরে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা বিশ্বে ভূমিকম্প ঝুঁকির দিক দিয়ে প্রথম ২০টি শহরের একটি।
৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেমন ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তার একটা ধারণা দিতে, বিশ্বের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু ভয়ংকর ভূমিকম্পের কথা জেনে আসি চলুন। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করা মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে ইউএসজিএস’র তথ্য বলছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি ছিলো ৯.৫ মাত্রার। চিলিতে ২২ মে ১৯৬০ সালের ঔই ভূমিকম্পে প্রায় ২ হাজার মানুষ মারা যায় আর গৃহহীন হয়ে পড়ে ২০ লাখ মানুষ। আর ভুমিকম্পে সবচেয়ে বড় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে ১৫৫৬ সালের ২৩ জানুয়ারি চীনের শাংকসিতে। এতে ৮লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। ১১৩৮ সালে সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে ভূমিকম্পে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তাছাড়া চীনে ১৯৭৬ সালে ট্যাংশান ভূমিকম্পে ২ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যদিও কিছু অনুমান অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু ট্যাংশানের সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়টি হলো- ভূমিকম্প হয়েছিল রাতের বেলা যখন বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিল। মাত্র ২৩ সেকেন্ডের কম্পন একটি পুরো শহরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, যা ছিল বিশ্ব ইতিহাসে দ্রুততম এক ধ্বংসযজ্ঞ। আমাদের প্রতিবেশী দেশ নেপালে ২০১৫ সালে যে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতেও ৩০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। তুরস্ক-সিরিয়ার দ্বৈত ভূমিকম্পে মুহূর্তেই শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল; কাশ্মীর, গুজরাট ও হাইতির ভূমিকম্পও দেখিয়েছে- দুর্বল অবকাঠামো হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এখন প্রশ্ন হলো, এমন একটা নিশ্চিত বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও আমরা কেন নিজেদের জীবনকে এত ঝুঁকিতে ফেলে রেখেছি? এইখানেই আসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মানুষের তৈরি দুর্যোগের মধ্যেকার সবচেয়ে বড় পার্থক্য। সাম্প্রতিক ভূমিকম্প আমাদের সিস্টেমের দুর্বলতাগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কেন বিল্ডিং কোড থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ভবন সেটা মেনে তৈরি হয় না? কারণ, আমাদের সিস্টেমে জবাবদিহিতার অভাব এবং দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। এই দুর্বলতা শুধু ভবনের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের অবকাঠামোতেও চরম বিপদ ডেকে আনছে।
অন্য দেশ, যেমন জাপান, তুরস্ক বা দক্ষিণ কোরিয়ায়, যখন কোনো ভবন ধসে পড়ে বা বড় অবকাঠামো ব্যর্থ হয়, তখন কন্ট্রাক্টর বা ইঞ্জিনিয়ারদের কঠোর শাস্তি হয়, মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়, এমনকি দীর্ঘমেয়াদী জেলও হয়। কিন্তু আমাদের এখানে কী হয়? কন্ট্রাক্টর বা ঠিকাদাররা সবচেয়ে কম দামে কাজ ধরেন, লাভ বাড়ানোর জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন। যখন দুর্ঘটনা ঘটে, তখন একে অপরের ওপর দোষ চাপানো হয়, আর দুর্বল বিচার ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আসল অপরাধীরা দিব্যি ঘুরে বেড়ায়। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ভবনই নির্মাণ করা হয় নন-প্রফেশনাল রাজমিস্ত্রিদের তত্ত্বাবধানে, যেখানে ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টের কোনো তদারকি থাকে না। এই ভবনগুলোই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
আমরা যদি এই ব্যবস্থার পরিবর্তন না করি, যদি অবকাঠামো নির্মাণে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করি, তাহলে সামনে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট যেই দুর্যোগই আসুক না কেন, তা লাখ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে। এই চরম বিপদে আমাদের নিজেদের জন্য কিছু প্রস্তুতি রাখতে হবে। ভূমিকম্পের সময় ভয় না পেয়ে তাৎক্ষণিক তিনটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমত নিচে বসে পড়া, দ্বিতীয়ত মজবুত কিছুর নীচে আশ্রয় নেয়া, এবং তৃতীয়ত শক্ত কিছু ধরে রাখা। এছাড়াও ভূমিকম্পের সময় ঘরের কোণে কলাম ও বিমের গোড়ায় আশ্রয় নিতে হবে। খোলা জায়গা খুঁজে আশ্রয় নিতে হবে। বহুতল বিল্ডিং, ভারী গাছ অথবা বৈদ্যুতিক তার ও পোলের নিচে কোনো অবস্থাতেই দাঁড়ানো যাবেনা। আর যারা উঁচু দালানে থাকেন তারা ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতরে থাকাই ভালো। আর বাড়িতে সবসময় একটা জরুরি কিট প্রস্তুত রাখুন, যাতে থাকবে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ফার্স্ট এইড বক্স, জরুরি ওষুধ, টর্চলাইট এবং পাওয়ার ব্যাংক। সঙ্গে রাখুন আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ফটোকপি এবং কিছু নগদ টাকা। এগুলোই আপনাকে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দারুণ সাপোর্ট দিবে।
সত্যিটা হলো, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে ভালো অবকাঠামো আর নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। আমাদের প্রতিটি নাগরিকের উচিত সরকারের কাছে কঠোর বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং দুর্বল ভবনগুলো চিহ্নিত করে তাদের রেট্রোফিটিং করার দাবি জানানো। যদি তা না করি তাহলে ২১ নভেম্বরের ঝাঁকুনিটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের কেবল একটি সূচনা হয়েই থেকে যাবে। আমাদের নিজেদের জীবন আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবর্তনটা আনতে হবে এখনই।
প্রকৃতি আমাদের সতর্ক করেছে। এখন আমাদের দায়িত্ব- নিজেদের শহর, ভবন, অবকাঠামো এমনভাবে তৈরি করা যাতে বড় ভূমিকম্প হলেও প্রাণহানি কমানো যায়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আটকানো না গেলেও জ্ঞান, সচেতনতা আর সঠিক প্রস্তুতিই পারে বিপর্যয়কে ছোট করে দিতে। আসুন, আমরা প্রস্তুত হই। আর ভূমিকম্প সম্পর্কে আপনার কাছের মানুষকে সচেতন করতে, ভিডিওটি শেয়ার করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে, সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
ভূমিকম্প – কতটা বিপদে বাংলাদেশ?
The Earthquake – How much danger is Bangladesh in?
On April 2, 1762. As soon as the sun was setting, a powerful giant emerged piercing the soil of the Chittagong coast. That giant named earthquake, measuring 8.5 magnitude, shook everything from Chittagong up to the then-Arakan. Due to that immense shaking, a river of fire came out of the Sitakunda hills. And the Bay of Bengal churning created a tsunami. But its most tragic aspect was the story of those people, who lost their homes, relatives, everything, and became destitute in an instant. The child who slipped from the mother’s lap, the wife who got separated from her husband’s hand, the child who couldn’t see their elderly parents for the last time – every life is still a tragic chapter in history. That terrible disaster claimed more than two hundred lives. And left behind a fear, which is still talked about among people. This is the most devastating earthquake in Bangladesh to date.
Greetings everyone.
You must have understood by now what we will talk about today. Yes, this video is about the earthquake which has been creating a chilling fear in all our minds for the last few days. Just a few days ago, on November 21, exactly at 10:38 AM, a large part of Bangladesh, especially Dhaka, Narsingdi, Narayanganj, and Gazipur, shook with a strong earthquake. The magnitude of this earthquake was 5.7. The epicenter was Madhabdi, Narsingdi, meaning very close to Dhaka. Even this moderate earthquake caused the collapse or tilting of several buildings and loss of life in the capital. After that, the capital shook with a few more tremors. Experts say this current shaking is actually a powerful warning signal of an extreme danger for our future. Do you know that the unknown history of the birth of the Earth, its breaking, tectonic plates, volcanoes, animal behavior, and the active fault lines surrounding Bangladesh are connected with this moderate magnitude tremor that occurred only in Dhaka?
We think of the Earth as a perfect sphere, but in reality, its inside is a cosmic factory. For millions of years, the Earth’s crust has been formed by some gigantic pieces, which are called Tectonic Plates. These plates are not static objects – rather, while floating, they slowly keep moving. Much like, a huge chunk of ice slowly moves while floating in water. Every year, these gigantic plates move forward only a few centimeters. But over billions of years, that slight movement has changed the map of the Earth.
About 300 million years ago, all the continents of the Earth were joined together. The name of that massive landmass was Pangaea. Africa, Europe, Asia, America, Australia – all were together then. Later, due to the movement of the plates, Pangaea started breaking up. The breaking of it created oceans like the Atlantic and Pacific, and the continents spread to their current positions. Just as Pangaea changed the Earth by breaking up, experts believe that the continents will join together again in the future. Geologists estimate that in about 20 to 25 crores of years, the Earth may again form a Supercontinent, which has been tentatively named Pangaea Proxima or Amasia. This is not an event of our time, but there is a need to know this story – because it explains that the movement inside the Earth is the main cause of earthquakes.
When the plates get stuck, a lot of energy accumulates. And when that energy suddenly releases, then the tremor happens. For example – just as waves or shaking are created in the water around it when something is thrown into a pond’s water, this is also just like that. Mountains are created where plates collide; volcanoes are created where one plate melts beneath the other; and when two plates rub against each other, that is when an earthquake occurs.
A strange thing is that people have many stories about the abnormal behavior of animals just before the Earth shakes – restlessness of dogs, sudden flying away of birds in a flock, cows stopping giving milk, or frogs coming out of the pond onto the land. Although reliable evidence of these has not been found in research, in some cases, it has been seen that there was abnormality in the movement of wild animals or farm animals just before a large earthquake. However, scientists still do not have evidence to view this as a regular warning. But in ancient times, the Chinese tried to detect earthquakes with instruments. In 132 AD, the Chinese expert Zhang Heng created the world’s first Seismoscope, which could detect distant earthquakes with the correct direction indication. Today, we can detect even the micro-movements of the soil more precisely with Seismographs and GPS. Some countries have an Early Warning System, where an alert message goes to people within seconds of the earthquake starting. But how much preparation can be taken in this short time, you tell?
Now let’s come to the reality of Bangladesh. Unfortunately, Bangladesh is situated at the junction of three plates. Among them, the Indian Plate is pushing from the south, the Eurasian Plate is pressing from the north, and the Burma Plate is on the east. Our country, located in between these three plates, is exactly standing under pressure. Around the country, there are the Dauki Fault, Madhupur Fault, the dangerous fault beneath the Shillong Plate, and numerous active faults within the Tripura-Chittagong Fold Belt. No major earthquake has occurred in these regions for many years.
The earthquake of November 21, 2025, was only 5.7 magnitude. But even that caused Dhaka and the surrounding cities to shake, buildings tilted in some places, and there was loss of life. Experts believe that this was a prior warning of a big danger. According to research, energy capable of causing an earthquake of above 8 magnitude has accumulated in the Dauki Fault. Since Dhaka is standing on soft alluvial soil, the intensity of the tremor increases even more here. Just imagine what will happen if the energy accumulated inside the soil comes out of the ground. Experts are saying that if an earthquake of 7 magnitude occurs within 100 kilometers of Dhaka, there is a possibility that almost 35% of the buildings in Dhaka city will collapse. Especially the dense population of Old Dhaka, narrow roads, the high-rise areas built by filling up wetlands – all together, the situation will be unimaginable. A United Nations report also stated that the capital Dhaka is one of the top 20 cities in the world in terms of earthquake risk.
To give an idea of how much damage a 7 magnitude earthquake can cause, let’s learn about some terrifying earthquakes in world history. Information from the US Geological Survey (USGS), which researches earthquakes, says that the largest earthquake in the world’s history so far was 9.5 magnitude. In that earthquake on May 22, 1960, in Chile, about 2,000 people died and 20 lakh people became homeless. And the biggest loss of life due to an earthquake happened on January 23, 1556, in Shaanxi, China. 8 lakh 30 thousand people died in it. In 1138, 2 lakh 30 thousand people died in an earthquake in the city of Aleppo, Syria. Furthermore, 2 lakh 55 thousand people died in the Tangshan earthquake in China in 1976, although some estimates suggest the death toll might be as high as 6 lakh 55 thousand. But the most tragic aspect of Tangshan is that the earthquake happened at night when most people were sleeping. A tremor of just 23 seconds wiped out an entire city, which was one of the fastest destructions in world history. In the powerful earthquake that occurred in our neighboring country Nepal in 2015, more than 30 lakh people became homeless and more than 9 thousand people lost their lives. The Turkey-Syria dual earthquake instantly turned the cities into ruins; the earthquakes in Kashmir, Gujarat, and Haiti also showed that the amount of damage increases manifold if the infrastructure is weak.
Now the question is, standing in the face of such a confirmed danger, why are we putting our lives at so much risk? This is where the biggest difference between natural disasters and man-made disasters comes. The recent earthquake has shown us the weaknesses of our system. Why are most buildings not constructed following the Building Code even though it exists? Because a lack of accountability and corruption has taken root in our system. This weakness is not only in the case of buildings but is also calling for extreme danger to the country’s infrastructure.
In other countries, such as Japan, Turkey, or South Korea, when a building collapses or a major infrastructure fails, the contractors or engineers are severely punished, have to pay large fines, and even face long-term imprisonment. But what happens here? Contractors or developers take on the work at the lowest price, use substandard materials to increase profit. When an accident occurs, they blame each other, and the real criminals roam freely taking advantage of the weak justice system. Almost 80% of the buildings in Bangladesh are constructed under the supervision of non-professional masons, without any supervision from engineers or architects. These buildings are the most vulnerable.
If we do not change this system, if we do not ensure accountability in infrastructure construction, then whatever disaster, natural or man-made, comes in the future, it can claim the lives of millions of people. In this extreme danger, we must keep some preparations for ourselves. During an earthquake, without getting scared, three easy immediate steps must be followed. Firstly, drop, secondly, take cover under something strong, and thirdly, hold on to something strong. Besides, during an earthquake, one should take shelter in the corners of the room, at the base of columns and beams. One must find an open space and take shelter. Under no circumstances should one stand under multi-story buildings, heavy trees, or electric wires and poles. And those who live in high-rise buildings should stay indoors until the earthquake stops. And always keep an emergency kit ready at home, which should contain dry food, pure water, a first-aid box, emergency medicine, a flashlight, and a power bank. Keep a photocopy of your important documents and some cash with you. These will greatly support you in the post-disaster period.
The truth is, to survive the damage of an earthquake, we must raise our voice for good infrastructure and a safe future. Every citizen should demand that the government strictly implement the Building Code and identify the weak buildings and retrofit them. If we do not do that, then the shaking of November 21 will remain only a prelude to history’s biggest catastrophe. We have to bring the change now to ensure the safety of our own lives and future generations. Nature has warned us. Now it is our responsibility – to build our cities, buildings, and infrastructure in such a way that loss of life can be minimized even if a large earthquake occurs.
Even though natural disasters cannot be stopped, knowledge, awareness, and proper preparation can reduce the catastrophe. Let us be prepared. And to make your close ones aware of earthquakes, share the video.
Thank you all, stay healthy, stay well.


