তেলের দাম কি ১০০০ টাকা হবে? হরমুজ প্রণালীর রহস্য! | Will Global Oil Prices Explode? Hormuj Mystery

আপনারা কি জানেন, আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস যা বিদেশ থেকে আসে তা কিভাবে আসে? হয়তো এটুকু জানেন, বড় বড় জাহাজে করে আসে। বিমানে করে না এনে মাসের পর পর সমুদ্রে পথে পণ্য পরিবহণের দরকার কী? চাইলেই তো বিমানে করে আনা যায়, স্বল্প সময়ে চলে আসবে। তাই না? এই সরল প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে বিমানে আনতে গেলে যে খরচ পড়বে তা হয়তো এতো বেশি হবে যা চিন্তা করলে মাথা ঘুরাবে। তার ওপর জাহাজের মতো একসাথে এতো বেশি পণ্য তো আর বিমানে আনা সম্ভব না। তাহলে উপায় একটাই অতি জরুরি পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্য পরিবহণের সহজ আর সাশ্রয়ী পথ হলো সমুদ্র বা জলপথ।

শুভেচ্ছা সবাইকে

সমুদ্র পথে পণ্য আনতে গেলে সেই জাহাজকে বিভিন্ন দেশের জলসীমা অতিক্রম করতে হয়। এসময় জলপথ কমিয়ে আনতে বহু বছর ধরেই বেশ কিছু শর্টকাট ওয়ে ব্যবহার করে জাহাজগুলো। এই শর্টকাটগুলোর আরেক নাম প্রণালী। এগুলোর মধ্যে কিছু এমন শর্টকাট আছে যে শতশত মাইল জলপথ কমিয়ে দেয়, আর কিছু আছে যেগেুলো না থাকলে কিছু দেশ থেকে কখনোই পণ্য আমদানি সম্ভব না।

এই পরিবহন জটিলতার কারণেই মাঝেমধ্যে নিত্যপণ্যের দাম হুট করেই বেড়ে যায়। ভাবছেন, এ আর এমন কী, দ্রব্যমূল্য তো এমনিতেই আকাশছোঁয়া, মাসের শেষে বাজার করতে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের। কিন্তু বিশ্বে এমন একটা প্রণালী আছে যেটা বন্ধ থাকলে পণ্যের দাম এতো বেশি বেড়ে যাবে যা মানুষের কল্পনারও বাইরে। ধরুণ তেলের দাম ৫০০ টাকা বেড়ে গেল। কি অবস্থা হবে ভাবুন একবার!

জিনিসের দাম বাড়া-কমার সাথে সম্পৃক্ত সেই ছোট্ট জলপথ হচ্ছে- হরমুজ প্রণালী। হরমুজ প্রণালীর নামটা অনেকের কাছে পরিচিত, আবার অনেকে আগে জানতেন না, এখন হয়তো একটু আধটু শুনছেন। আমাদের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের হরমুজ প্রণালী কেন এতোটা গুরুত্বপূ‍র্ণ? চলুন ব্যাপারটার একটু গভীরে গিয়ে ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য জেনে নেই। ঢাকা থেকে টোকিও, লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক – কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার সাথে এর গভীর সম্পর্ক। এটি শুধু একটি জলপথ নয়; এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের এক গুরুত্বপূর্ণ ধমনী।

সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

ভাবুন তো, যদি বন্ধ করে দেয় তাহলে পরিণতি কী হবে? নিশ্চিত একটা বিশাল অর্থনৈতিক বিপর্যয়! তাহলে, কেন এই ছোট্ট জলপথটি আজকের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ? কেন এর স্থিতিশীলতা আমাদের জন্য এতো এতো জরুরি, যা আপনি বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন?

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে যুক্ত করে। এর একদিকে ইরান, অন্যদিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় এর প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত পথগুলো আরও সরু – প্রতিটি মাত্র ২ মাইল চওড়া, আর মাঝে আছে ২ মাইলের একটি বাফার জোন। সংকীর্ণ হলেও প্রণালীটি প্রায় ৬০ মিটার মানে ১৯৭ ফুট গভীর। এর ফলে বিশাল তেলবাহী জাহাজ, যেমন ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার সহজেই চলাচল করতে পারে।

****

লিটার প্রতি তেলের দাম কি এবার হাজার টাকা ছুঁয়ে ফেলবে? হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি বন্ধ! আমেরিকান মিত্রপক্ষ ইসরায়েলের হামলা আর খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্য এখন উত্তাল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় একদিকে মাঝ সমুদ্রে আটকা বাংলাদেশের শত শত পণ্যবাহী জাহাজ, অন্যদিকে দেশের পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার! শোনা যাচ্ছে, দেশের অনেক পাম্পই তেল দিচ্ছে না, আর যারা দিচ্ছে তারাও গাড়িপ্রতি দুই-তিনশ টাকার বেশি তেল দিতে রাজি নয়। মাত্র ৩ দিনেই কেন কাঁপছে সারা বিশ্ব? বাংলাদেশ কি তৈরি এই আসন্ন মহাবিপদের জন্য? যা ঘটছে তা আপনার ধারণার চেয়েও ভয়ংকর!

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানচিত্রের সামান্য একটা সরু জলপথ বন্ধ হওয়া নিয়ে কেন পুরো পৃথিবীতে এমন মহাপ্রলয় শুরু হলো? হরমুজ প্রণালীকে কেন ‘বৈশ্বিক জ্বালানি চোকপয়েন্ট’ বলা হয়? কারণ, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ এরও বেশি এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) একটি বড় অংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়েই যায়। ইউ.এস. এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়।

প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই কথা। বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়েই যায়। কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা বেশিরভাগ এলএনজিই এই পথ ব্যবহার করে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইরান – এই দেশগুলো তাদের তেল রপ্তানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ভীষণ নির্ভরশীল। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি চলাচল করায়, এখানে যেকোনো ছোটখাটো ঘটনাও বিশ্বজুড়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সামান্য ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ, একটি ছোট সংঘর্ষ, এমনকি স্থানীয় কোনো ঝামেলাও দ্রুত বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটে পরিণত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে কোনো সমস্যা হলে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউ.এস. এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি-র প্রায় ৮৪ ভাগ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে যায়। চীন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া এর প্রধান আমদানিকারক। যেমন, চীনের মোট সমুদ্রপথে তেলের ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূরণ করে, যার প্রায় ৫০ ভাগ অপরিশোধিত তেল এবং ৬০ ভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস, যা হরমুজ দিয়ে চলাচল করে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল; তাদের অপরিশোধিত তেলের ৭০-৮৭ শতাংশ এবং এলএনজি-র একটি বড় অংশ এই পথেই আসে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও এই প্রণালী ব্যবহার করে তাদের তেলের মাত্র ৭ শতাংশ আমদানি করে, তারপরও বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের অন্যতম সংযোগ ব্যবস্থা হরমুজের যেকোনো সমস্যা আমেরিকান ভোক্তাদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

এই হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কী হবে? ব্যাপারটা হবে ভীষণ ভয়ংকর। অল্প সময়ের জন্যও যদি বন্ধ হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম হবে আকাশচুম্বী। বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, ব্যারেল প্রতি ক্রুড ওয়েলের দাম  ১২০-২০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। জ্বালানি খরচের এই বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ঘটাবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তেল পরিবহন, উৎপাদন, কৃষিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়বে। বুঝতেই পারছেন, প্রতিদিনের দরকারি জিনিসপত্রও হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে। আর আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষ নেমে আসাটাও অস্বাভাবিক কিছু না।

এছাড়া, শিপিং ও বীমা খরচও অনেক বেড়ে যাবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালীর কোনো কার্যকর বিকল্প পথ নেই। সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু পাইপলাইন আছে। যেগুলো গড়ে প্রতিদিন ৩.৫-৬.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করতে পারবে। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইতিহাস কিন্তু বেশ রোমাঞ্চকর! ১৯৮০ থেকে ‘৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় এই প্রণালী হয়ে উঠেছিল ট্যাঙ্কার যুদ্ধের মূল মঞ্চ। ইরাক ১৯৮১ সালে ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা শুরু করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানকে ক্ষেপিয়ে প্রণালী বন্ধ করতে বাধ্য করা, যাতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো হস্তক্ষেপ করে। ১৯৮৭ সালে আমেরিকা সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, কুয়েতি তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে রক্ষা করতে তাদের নৌবাহিনী প্রণালীতে টহল দিতে শুরু করে।

২০২০ সালে হরমুজ প্রণালীতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। কিছু তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ স্যাটেলাইটের নজর এড়িয়ে ইরানের তেল পরিবহণ করেছিল। এসব জাহাজগুলোর আসল পরিচয় গোপন রাখার জন্য স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা – AIS বন্ধ করে রাখে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে তারা অন্য দেশের পতাকা ব্যবহার করেছিল। এ প্রক্রিয়ায় জাহাজগুলো প্রথমে অন্যদেশের পতাকা উড়িয়ে যাত্রা শুরু করতো, গন্তব্যের কাছাকাছি এসে তারা আবারও নিজেদের আসল পতাকা ব্যবহার করতো। এমনকি মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হতো। কিন্তু একদিন আমেরিকার নৌবাহিনী বারো লক্ষ তেলসহ একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে। এরপর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অবশ্য হরমুজ প্রণালীর এই বিপদসংকুল রুটে আজও প্রতি দশটা জাহাজের অর্ধেকেরও বেশি জাহাজ তাদের আসল পরিচয় গোপন রেখে চলাচল করে। এর উদ্দেশ্য হলো তাদের উৎস, গন্তব্য বা পণ্য গোপন রাখা যাতে নিষেধাজ্ঞা বা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়ানো যায়। আসলে এ রুটে তেল পরিবহন এতোটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে জাহাজের বীমা খরচ অন্যান্য রুটের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি হয়। এবং জাহাজের ক্যাপ্টেনরা অতিরিক্ত ঝুঁকি ভাতা পান, অনেক জাহাজ সশস্ত্র প্রহরীও রাখে।

সম্প্রতি, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো “China owned”, “Russian crude”, বা “no link Israel” – এর মতো অস্বাভাবিক বার্তা সম্প্রচার করে চলাচল করছে,  যাতে ভুল করে তারা যেন আক্রমণের শিকার না হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৯ সালে এখানে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছিল, যার দায় আমেরিকা ইরানের উপর চাপিয়েছিল। এসব ঘটনার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। ইরান বারবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছে – যেমন ২০১১ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা এই কৌশল ব্যবহার করেছিল। জুন ২০২৫-এ আল জাজিরার রিপোর্ট বলছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকান বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রণালী বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রতিশোধ নেওয়ার আরও নানান উপায় তাদের হাতে রয়েছে। বর্তমান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে ইরান-ইসরায়েলের চলমান টানা-পোড়েন। আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক সাইটে হামলা চালিয়ে সরাসরি এই সংঘাতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছে। ইরান এটাকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর হামলা বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে।

হুরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচলের আইনি কাঠামো মূলত ১৯৮২ সালের সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea – UNCLOS) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। যা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রণালীগুলোর মধ্য দিয়ে সব জাহাজের অবিচ্ছিন্ন চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করে।

ইরান ১৯৯৬ সালে UNCLOS অনুমোদন করলেও, তারা “ট্রানজিট প্যাসেজ”-এর ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। ইরান দাবি করে, বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোকে তাদের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়ার জন্য অগ্রিম অনুমতির প্রয়োজন। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, স্বা‍র্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ইরান এ দাবী করতেই পারে।

অন্যদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে UNCLOS অনুমোদন করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর হুরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝেছেন, হরমুজ প্রণালী শুধু একটা সমুদ্রপথ নয়- এটি গ্লোবাল অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি! এখানে সামান্য অস্থিরতা মানেই পুরো বিশ্বে তেলের দামে তোলপাড় সৃষ্টি করতে পারে। আর আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ইরানের টানাপোড়েনে সংকীর্ণ এই জলপথ এখন বিশ্ব রাজনীতির হটস্পটে পরিণত হয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, এই প্রণালীর নিরাপত্তা শুধু সৈন্য বা গোলাবারুদের উপর নির্ভর করে না। এখানে দরকার কূটনৈতিক সতর্কতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংঘাত এড়ানোর বুদ্ধিমত্তা। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাগুলো অনুধাবন করা আমাদের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে আপডেট থাকতে এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের চ্যানেলে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top