অ্যাডিডাস ও পুমা – দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব থেকে বিশ্বখ্যাত দুই ব্র্যান্ড

শুভেচ্ছা সবাইকে।

আচ্ছা বলেন তো, আমরা কী দেখে বন্ধুত্ব করি? মানুষের আচার-আচরণ, কথাবার্তা, মন-মানসিকতা এগুলোই তো? কিন্তু যদি বন্ধুত্ব কিংবা শত্রুতার একমাত্র মাপকাঠি হয় পায়ের জুতা, তাহলে?

অদ্ভুত শোনালেও, পৃথিবীতে একটি শহরের বাস্তবতা ছিল এমনই! যেখানে মানুষ প্রথমে জুতার দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নিতো, সে বন্ধু না শত্রু। বাইরের কেউ এলে, যদি তার জুতা পছন্দের ব্র্যান্ডের না হতো, তাহলে কথা বলার আগ্রহ দেখাতো না! এ নিয়ে মানুষে মানুষে তৈরি হয়েছিল এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। আর অ্যাডিডাস ও পুমা নামের দুটি শীর্ষ জুতার ব্র্যান্ড ছিল এ প্রতিযোগিতার পেছনের হোতা।

গল্পটি শুধু অ্যাডিডাস আর পুমার নয়… এটি দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের গল্প, বিশ্বাসঘাতকতার গল্প, আর ইতিহাস গড়ার গল্প! আজ আমরা জানবো, কীভাবে দুই ভাইয়ের শত্রুতা তৈরি করলো দুটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড— অ্যাডিডাস এবং পুমা!

১৯২০-এর দশক, জার্মানির ছোট শহর, হার্জোগেনোরাখ। এ শহরের অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম অ্যাডলফ (অ্যাডি) ড্যাজলার এবং রুডলফ ড্যাজলারের। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ভাই অ্যাডি ছিলেন চুপচাপ, কিন্তু জুতার নকশা ও টেকনোলজিতে পারদর্শী। বড় ভাই রুডলফ ছিলেন ব্যবসায়ী মানসিকতার, চটপটে ও বুদ্ধিমান।

তাদের বাবা ছিলেন একজন সাধারণ জুতার কারিগর। কিন্তু অ্যাডি এবং রুডলফ চেয়েছিলেন বড় কিছু করতে। ১৯২৪ সালে তারা প্রতিষ্ঠা করলেন গেব্রুডার ড্যাজলার শু-ফ্যাব্রিক নামের একটি জুতার কোম্পানি, যা অ্যাথলেটিক জুতা তৈরির জন্য জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকের সময় আমেরিকার কিংবদন্তি অ্যাথলেট জেসি ওয়েনস চারটি স্বর্ণপদক জিতলেন- আর তার পায়ে ছিল ড্যাজলার ব্রাদার্সের তৈরি স্পাইক জুতা! এটি ছিল দুই ভাইয়ের জন্য বিশাল বিজয়। একটা ছোট শহরের দুই ভাইয়ের তৈরি জুতা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গেল, রাতারাতি পরিচিত হয়ে উঠলো তাদের ব্র্যান্ড!

কিন্তু এই সাফল্যও তাদেরকে একসাথে রাখতে পারেনি… কেন? সে ঘটনাতেই আসছি…

যে কথা বলছিলাম, ড্যাজলার ব্রাদার্সের নাম ছড়িয়ে পড়লো সারা বিশ্বে এবং এই কোম্পানিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠলো।

যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো, তখন দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকলো। রুডলফ এবং অ্যাডি- দুজনই ছিলেন নাৎসি পার্টির সদস্য। এমনকি তাদের কোম্পানিটাকে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল তখন। হিটলারের দলের হয়ে রুডলফ যখন সরাসরি সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, তখন কোম্পানির দায়িত্ব নিলেন অ্যাডি এবং নিজেকে রাখলেন রাজনীতির বাইরে।

তবে যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় তাদের সম্পর্ক চরমে পৌঁছায়! রুডলফ বিশ্বাস করতেন, অ্যাডি তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে ফাঁসিয়েছেন, যার ফলাফল হিসেবে যুদ্ধের পর তাকে বন্দি হয়ে জেল খাটতে হয়। সেই থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যকার বিশ্বাসের অবশিষ্ট দেয়ালটুকুও ভেঙে যায় চিরতরে!

তবে তাদের সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার পেছনে আরও একটি কারণ শোনা যায়। এটা অবশ্য ১৯৪৩ সালের সেই ভয়াবহ বোমা হামলার সময়ে। প্রচলিত আছে, সেসময় একটি শেল্টারে আশ্রয় নিতে গেলে রুডলফের পরিবারকে অপমান করে অ্যাডি। এই এক ঘটনার পর থেকে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে যায়! বারবারা স্মিতের লেখা ‘স্নিকার ওয়ারস’ বইসহ আরও কিছু জায়গায় এ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও এ ঘটনার সত্যতা নিয়েও বিতর্ক আছে।

যুদ্ধের পর পরাজিত পক্ষ হওয়ায় তাদের জুতার ফ্যাক্টরিটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। তখন অ্যাডির স্ত্রী ক্যাথি ড্যাজলার কূটনৈতিক দক্ষতা দেখিয়ে মিত্রবাহিনীর সামরিক কর্মকর্তাদের বোঝান যে তাদের তৈরি জুতা একসময় মার্কিন অ্যাথলেট জেসি ওয়েনস ব্যবহার করেছিলেন এবং অলিম্পিকে চার-চারটি স্বর্ণপদক জিতেছিলেন। এই গল্প শুনে মিত্রবাহিনী ফ্যাক্টরিটি ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুই ভাইয়ের সম্পর্ক যে একেবারেই ভেঙে পড়েছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং পরিণতিতে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কও চিরতরে শেষ হয়ে যায়।

যুদ্ধের পর দুই ভাই আর একসাথে কাজ করতে পারলেন না। সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে তারা একে অপরের মুখ পর্যন্ত দেখতে চাইতেন না। শেষমেশ, ১৯৪৮ সালে তারা আলাদা হয়ে যান।

১৯৪৯ সালে অ্যাডি ড্যাজলার তার নতুন কোম্পানির নাম রাখেন Adidas—নিজের নাম Adi ও Das মিলিয়ে। আগের বছর, রুডলফ প্রথমে নিজের নতুন জুতার কোম্পানির নাম Ruda রাখলেও পরে পরিবর্তন করে Puma রাখেন, অ্যাথলেটদের জুতায় আফ্রিকান চিতার ক্ষিপ্রতা প্রতিফলিত করতেই এই নাম। দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার ব্যবসায়িক রূপ নেয়—তারা নিজ নিজ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেন।

ড্যাজলার পরিবারের মতো একসময় হার্জোগেনোরাখ শহরটি ছিল শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব এ শহরকেও আলাদা করে দেয়! হার্জোগেনোরাখ শহরটি একেবারে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। মানুষ জুতা দেখে বুঝতো কে কোন কোম্পানির সমর্থক। অ্যাডিডাসের কর্মচারীরা থাকতেন একদিকে, অন্যদিকে থাকতেন পুমার কর্মচারীরা। এমনকি জুতার দোকানদারদেরও নির্বাচন করতে হতো—তারা পুমা বিক্রি করবেন, নাকি অ্যাডিডাস! কিন্তু একসাথে এই দুই ব্র্যান্ডের জুতা কখনোই বিক্রি করতে পারবেন না। এ যেন রীতিমতো পাপ ছিল সে শহরে!

শহরটি এতটাই বিভক্ত হয়ে পড়ে যে, মানুষ আগে জুতার দিকে তাকিয়ে তারপর কথা বলতো—এ থেকেই এটি পরিচিতি পায় ‘ঘাড় বাঁকানো শহর’ নামে।

প্রথমদিকে সাফল্যের দেখা পায় পুমাই, ১৯৫২ সালে তাঁদের তৈরি সুপার অ্যাটম বুট বেশ জনপ্রিয়তা পায় ফুটবলারদের মাঝে। আরো দুই বছর পর ১৯৫৪ দালে জার্মানি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে, অ্যাডিডাসের তৈরি বুট সেবার জার্মান জাতীয় দলের পায়ে ছিল। অ্যাডিডাসের জন্য এটা যে বিশাল এক সাফল্য নিয়ে আসে, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।   

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের আগে দুই কোম্পানি সিদ্ধান্ত নেয়—কেউই কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের সাথে চুক্তি করবে না। এটি ছিল পেলে প্যাক্ট (Pele Pact), অ্যাডিডাস ও পুমার মধ্যে একটি অলিখিত চুক্তি।

কিন্তু পুমা সেই চুক্তি ভেঙে ফেলে। সরাসরি প্রমোশনে না গিয়ে ভিন্ন এক কৌশল অবলম্বন করে পুমার ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং টিম। তারা পেলের সাথে গোপনে চুক্তি করে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ঠিক খেলা শুরুর আগে কিক-অফের সময় পেলে মাঠের মাঝখানে বসে তার জুতার ফিতা বাঁধেন। ক্যামেরা জুম ইন করলো… এবং পুমার নাম ফুটে উঠলো কোটি কোটি দর্শকের সামনে। সারা বিশ্বের চোখ তখন পেলের পায়ের দিকে! ক্যামেরাগুলো এ দৃশ্যটি ধরে রাখে, আর পুরো বিশ্ব পুমার নাম জেনে যায়! এটি ছিল এক অসাধারণ মার্কেটিং কৌশল, যা বিশ্বব্যাপী পুমা ব্র্যান্ডকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে।

এদিকে দুই ভাই কখনোই তাদের দ্বন্দ্ব ভুলতে পারেননি এবং তারা বেঁচে থাকতে একজন আরেকজনের সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি। একটা সময় ছিল, যখন তারা একসাথে স্বপ্ন দেখতেন, একসাথে জুতা বানাতেন… কিন্তু তাদের শেষ ঠিকানাও হলো দুই বিপরীত দিকে! মৃত্যুর পর তারা হার্জোগেনোরাখের একই কবরস্থানে সমাহিত হন, তবে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে!

অবশ্য ২০০৯ সালে অ্যাডিডাস এবং পুমার কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে এক প্রতীকী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন। এটি ছিল দুই ব্র্যান্ডের মধ্যে শত্রুতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

আজ অ্যাডিডাস এবং পুমা উভয়েই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড। ২০২৩ সালে, অ্যাডিডাসের রাজস্ব ছিল ২১.৪৩ বিলিয়ন ইউরো, সেখানে পুমার রাজস্ব ছিল ৮.৬ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৪ সালে অ্যাডিডাসের রাজস্ব বেড়ে দাঁড়ায় ২৩.৬৮ বিলিয়ন, পুমার রাজস্ব বৃদ্ধি সে তুলনায় বেশ কম, ৮.৮২ বিলিয়ন ইউরো, মাত্র ৪.৪%।

নিট মুনাফার ক্ষেত্রে অবশ্য অ্যাডিডাসের চেয়ে পুমাই তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। পুমার নিট মুনাফা ছিল ২৮২ মিলিয়ন ইউরো, অ্যাডিডাসের ২০২৪ সালের নিট মুনাফা ৫৯৮ মিলিয়ন ইউরো। অ্যাডিডাস আধুনিক স্পোর্টস মার্কেটে রাজত্ব করছে, আর পুমা তার স্টাইল ও আরামদায়ক ডিজাইনের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাডিডাসের প্রবৃদ্ধি পুমার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডিডাসের রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২৩.৭ বিলিয়ন ইউরো, যেখানে পুমার প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৪%। ১৯৭০ সালে কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের সাথে চুক্তি করে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে এগিয়ে গেলেও লং রানে অ্যাডিডাসের সাথে আর পেরে ওঠেনি পুমা।

তবে, অ্যাডিডাস কিংবা পুমা যা-ই বলেন না কেন, বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে কিন্তু বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি (Nike)। ২০২৩ সালে, বৈশ্বিক ক্রীড়া পোশাক বাজারে Adidas-এর শেয়ার ছিল ৮%, যেখানে Puma-এর শেয়ার ছিল মাত্র ২.৬%। আর Nike – এই বাজারে শীর্ষে অবস্থান করছে ১৮.২% শেয়ার নিয়ে।

একবার ভাবুন তো, অ্যাডি ও রুডলফ যদি একসাথেই ব্যবসা করতেন, তাহলে তাদের ব্যবসা কোথায় গিয়ে ঠেকতো? আবার এমনো তো হতে পারত,  অ্যাডি এবং রুডলফ – যদি তাঁদের মধ্যে  শত্রুতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকতো, তাহলে তাঁরা বিশ্বের নজর থেকে হয়তো হারিয়েই যেত।

আপনাদের কী মনে হয়? কমেন্টে জানাতে পারেন। 

তৃতীয় বিশ্বের এক উন্নয়নশীল দেশ, বাংলাদেশ। বর্তমান প্রজন্ম নাইকি, অ্যাডিডাস ও পুমার মতো দামী ব্র্যান্ডের জুতা পরতে শুরু করেছে।

কিন্তু একটা বিশাল সময় ধরে বাংলাদেশে ভালো এবং টেকসই মানের জুতার ব্র্যান্ড বলতেই ছিল বাটা। ঈদের আগে নতুন স্যান্ডেল কিংবা বছরের শুরুতে স্কুলের কেডস – সবকিছুতেই মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ ছিল এই বাটা। বাটা কোম্পানির ব্র্যান্ড হয়ে ওঠার চমৎকার এক গল্পটি জানতে চাইলে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং নোটিফিকেশন বেলটি অন করে রাখুন, যাতে কোনো কনটেন্ট বাদ পড়ে না যায়।

ধন্যবাদ সবাইকে।

সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

Adidas vs Puma

Greetings; Everyone.

Alright, tell me this- how do we make friends? Through people’s behavior, speech, and mentality, right? But what if the only criteria for friendship or enmity were the shoes on someone’s feet?

As strange as it sounds, that was the reality of a town in this world! People would first look at your shoes to decide if you were a friend or an enemy. If an outsider’s shoes didn’t match their preferred brand, they wouldn’t even bother talking to them! This created a strange rivalry among people and the two shoe brands behind it were none other than Adidas and Puma.

But this is not just a story of Adidas and Puma… It’s a story of two brothers’ rivalry, betrayal, and making history! Today, we’ll uncover how the enmity between two brothers gave birth to two globally renowned brands – Adidas and Puma!

1920s, a small town in Germany- Herzogenaurach.
Adolf (Adi) Dassler and Rudolf Dassler were born into a humble family in this town. Adi, the younger brother, was quiet but skilled in shoe design and technology. Rudolf, the elder brother, was sharp and business-minded.

Their father was an ordinary shoemaker. But Adi and Rudolf wanted to do something big. In 1924, they founded a shoe company called Gebrüder Dassler Schuhfabrik, which quickly became popular for making athletic shoes.

During the 1936 Berlin Olympics, American legend Jesse Owens won four gold medals — wearing spikes made by the Dassler Brothers! This was a huge victory for the brothers. Shoes from a small town in Germany had reached the world stage overnight!

But even this success couldn’t keep them together… Why? That’s where the real story begins…

After the Dassler Brothers’ success, the company became famous worldwide and grew rapidly.

But when World War II broke out, the distance between the brothers widened.
Both Rudolf and Adi were members of the Nazi Party. Their factory was even used to produce military equipment. While Rudolf directly joined the army for Hitler’s forces, Adi took charge of the company and stayed away from politics.

Their relationship hit rock bottom during the war. Rudolf believed that Adi deliberately got him enlisted in the army to trap him — resulting in Rudolf being imprisoned after the war. This destroyed whatever trust remained between them forever!

There’s another reason behind their strained relationship — during a bombing in 1943, it’s said that Adi insulted Rudolf’s family when they took shelter together. This incident caused an irreversible rift between the brothers. The incident is mentioned in the book Sneaker Wars by Barbara Smith and other sources, though its authenticity remains debated.

After the war, as Germany lay defeated, their shoe factory was on the verge of destruction. But Adi’s wife, Käthe Dassler, convinced the Allied forces not to destroy the factory by telling them about Jesse Owens’ Olympic victory wearing their shoes. The story worked- the factory was spared.

But the brothers’ relationship was beyond repair. Their business partnership ended for good.

In 1948, the brothers finally parted ways.
In 1949, Adi Dassler founded his new company and named it Adidas – a combination of his name “Adi” and “Das.”
Rudolf initially named his new company Ruda but later changed it to Puma to reflect the agility of an African cheetah in athletic shoes.

Now the rivalry turned into a business war- they started competing through their brands.

Herzogenaurach was once a peaceful, united town. But the rivalry between the brothers divided the town completely! You could tell which side someone was on by looking at their shoes. Adidas employees lived on one side of the town, while Puma employees lived on the other. Even shopkeepers had to choose which brand to sell — selling both Adidas and Puma together was considered a sin!

The town was so divided that people would first look at someone’s shoes before talking to them — giving the town the nickname “The Town of Bent Necks.”

Initially, Puma had the edge.
Their Super Atom boot became very popular among footballers in 1952. But two years later, in 1954, West Germany won their first World Cup — wearing Adidas boots! This was a massive success for Adidas.

Before the 1970 World Cup, the two companies agreed that neither would sign a deal with legendary footballer Pelé. This agreement was called the “Pelé Pact.”

But Puma broke the pact. They made a secret deal with Pelé. During the 1970 World Cup, just before the kickoff, Pelé knelt on the field to tie his shoelaces — the camera zoomed in on his Puma shoes. The whole world saw it, making Puma an overnight sensation! It was a brilliant marketing strategy.

The brothers never reconciled. They never spoke to each other again.

Once, they dreamed together, worked together, but their final resting places are on opposite sides of Herzogenaurach’s cemetery.

In 2009, employees of Adidas and Puma played a symbolic football match to end the rivalry officially.

Today, Adidas and Puma are both global giants.
In 2023, Adidas generated €21.43 billion in revenue, while Puma made €8.6 billion. In 2024, Adidas’ revenue rose to €23.68 billion, while Puma’s revenue increased modestly to €8.82 billion (4.4% growth).

In terms of net profit, Puma is slightly ahead.
Puma’s net profit was €282 million, while Adidas made €598 million in 2024. Adidas dominates the modern sports market, while Puma appeals to the younger generation with stylish, comfortable designs. But Adidas’ growth rate far exceeds Puma’s.

Nike remains the global leader. In 2023, Adidas had an 8% market share in the global sportswear market, Puma held 2.6%, but Nike dominated with an 18.2% share.

Imagine if Adi and Rudolf had stayed together – where would their business be today? Or maybe, without the rivalry, they wouldn’t have become global icons.

What do you think? Let us know in the comments.

Bangladesh- a developing country. The new generation here has started wearing expensive brands like Nike, Adidas, and Puma.

But for a long time, the only reliable shoe brand in Bangladesh was Bata. New sandals before Eid or school shoes at the start of the year, Bata was always the first choice for the middle class. If you want to know the story behind Bata’s success, subscribe to our channel and turn on the notification bell so you don’t miss any updates!

Thank you all.
Stay safe, stay well.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top